Friday, February 17, 2017

কবিতা : "ক্ষুদার্থ এক পথ শিশু" লেখা : মোর্শেদ আলম

একদা এক পথ শিশু ক্ষুদার জ্বালায়,
ছুটিল সহসা কিছু খাবার আশায় ।
পাতিল হাত এক মহাজনের কাছে,
মহাজন মুখ বাকিয়ে বলিল তাকে-
কেন করিস ভিক্ষা ব্যবসার ধান্দা ?
যা ভাগরে বেটা নইলে দিব ডান্ডা ।
চলিল পথ আসিল এক পার্কের ধারে,
দেখিল দোজন প্রেমিক প্রেমিকা বসে আছে ।
পাতিয়া হাত বলিল ভাই-
দেন ক'টা টাকা কিছু খেতে চাই,
বলিল প্রেমিক ভাবিয়া তারে-
কাজ করলেই পারো,
ভিক্ষা করো কেরে ?
আবার আসিল ফিরে শূণ্য হাতে ।
দেখিল সামনে এক ভদ্রলোককে,
পাতিয়া হাত বলিল মশাই-
দেন ক'টা টাকা আছি অনেক ক্ষিদায়,
ভদ্রলোক বলিল কাতর সুরে,
আল্লার অস্তে মাফ করে দাও মোরে ।
হাসিল শিশু ভাবিল সে,
আমার মতো ধনী আর কোথায় কে আছে !
কোটিপতি লোকগুলোও দুই টাকা না দিয়ে
মাফ চায় আমার কাছে ।

Thursday, February 16, 2017

কবিতা:- আমার অস্তিত্ব লেখক:- মোর্শেদ আলম


গভীর রাতেও জেগে আছি
স্বপ্নরা ঘুমাতে দেয়না আছে যত,
আমার এই তন্দ্রা বিহীন আখি যোগল
পলকহীন আর কত ?
.
নির্ঘুম রাত কাটে
দিন কাটে না বেশ,
একা একা শুয়ে থাকি
এর নাইকো অবশেষ ।
.
আমি অগোছালো, ছন্নছারা
আমার রুটিন বিহীন জীবন,
ভালো লাগে না এই ধরাতে
আছে যত সব নিয়ম কানুন ।
.
আমি নই কোনো বিখ্যাত কেউ
যে উঠব ইতিহাসের পাতায় কবু,
আমি ক্ষুদ্র, আমি নগন্য
আমায় এই ভাবেই বানিয়েছেন প্রভু ।
.
আমি কবি নই, কাব্যিক কোনো প্রতিভাও নেই আমার
শুধু আছে কিছু বিষাদীয় সংলাপ,
বলি আবোল, তাবোল
বলি ভুলবাল
এ যেন এক মহা পাগলের প্রলাপ ।

ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস,,,,


ভালোবাসা শব্দটি খুব সহজেই সকলের সহজাত প্রবৃত্তির সাথে মিশে যায়। কেননা জন্মের পর থেকেই মানুষের বেড়ে উঠা এই ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই। আর তাই ভালোবাসার দিনটিকে নিয়ে সকলের ভাবনাটাও থাকে বিশেষ। এই দিনটির শুরুর গল্পটাও বেশ রঙিন। ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের পটভূমিটি কী আসুন খুঁজে দেখি ইতিহাসের পাতায়। আর এ নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার

আমাদের দেশে দিনটির শুরু

১৯৯৩ সালের দিকে আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটে। সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব শফিক রেহমান পড়াশোনা করেছেন লন্ডনে। পাশ্চাত্যের রীতিনীতিতে তিনি ছিলেন অভ্যস্ত। দেশে ফিরে তিনিই ভালোবাসা দিবসের শুরুটি করেন। এ নিয়ে অনেক ধরনের মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শফিক রেহমানের চিন্তাটি নতুন প্রজন্মকে বেশি আকর্ষণ করে। সে থেকে এই আমাদের দেশে দিনটির শুরু।

বছর ঘুরে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের ভালোবাসায় রাঙিয়ে গেলেও, ভালোবাসা কিন্তু প্রতিদিনের। জীবনের গতি নির্ধারণ করে ভালোবাসা। মানুষ বেঁচে থাকে ভালোবাসায়।

'ভালোবাসা' পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর কোমল দুরন্ত মানবিক অনুভূতি। ভালোবাসা নিয়ে ছড়িয়ে আছে কত কত পৌরাণিক উপাখ্যান। সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি সর্বত্রই পাওয়া যায় ভালোবাসার সন্ধান। আর তাই ১৪ ফেব্রুয়ারি মানেই প্রজন্মের কাছে একটি কাঙ্ক্ষিত দিন। দুনিয়াজুড়ে দিনটিকে অত্যন্ত আগ্রহ ও আনন্দের সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে। তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও দিনটি নিয়ে থাকে প্রচুর মাতামাতি। কী এই ভ্যালেন্টাইনস ডে? কীভাবে তার উত্পত্তি? কেনইবা একে ঘিরে ভালোবাসা উত্সবের আহ্বান? প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে আছে নানা মুনির নানা মত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ইতিহাসটি হচ্ছে ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের। ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপি এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী। সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সম্রাটের বারবার খ্রিস্টধর্ম ত্যাগের আজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করলে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। সেই থেকেই দিনটির শুরু। এ ছাড়া আরও একটি প্রচলিত ঘটনা আছে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে নিয়েই। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দু'জন প্রাণ খুলে কথা বলত। একসময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিত্সায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া খ্রিস্টীয় ইতিহাস মতে, ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের সাম্রাজ্যবাদী, রক্তপিপাষু রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের দরকার এক বিশাল সৈন্যবাহিনীর। একসময় তার সেনাবাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দেয়। কিন্তু কেউ তার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে রাজি নয়। সম্রাট লক্ষ করলেন যে, অবিবাহিত যুবকরা যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে অত্যধিক ধৈর্যশীল হয়। ফলে তিনি যুবকদের বিবাহ কিংবা যুগলবন্দী হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যাতে তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ না করে। তার এ ঘোষণায় দেশের যুবক-যুবতীরা ক্ষেপে যায়। যুবক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ধর্মযাজকও সম্রাটের এ নিষেধাজ্ঞা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। প্রথমে তিনি সেন্ট মারিয়াসকে ভালোবেসে বিয়ের মাধ্যমে রাজার আজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার গির্জায় গোপনে বিয়ে পড়ানোর কাজও চালাতে থাকেন। একটি রুমে বর-বধূ বসিয়ে মোমবাতির স্বল্প আলোয় ভ্যালেন্টাইন ফিস ফিস করে বিয়ের মন্ত্র পড়াতেন। কিন্তু এ বিষয়টি একসময়ে সম্রাট ক্লডিয়াসের কানে গেলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি সৈন্যরা ভ্যালেন্টাইনকে হাত-পা বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে সম্রাটের সামনে হাজির করলে তিনি তাকে হত্যার আদেশ দেন। আরেকটি খ্রিস্টীয় ইতিহাস মতে, গোটা ইউরোপে যখন খ্রিস্টান ধর্মের জয়জয়কার, তখনও ঘটা করে পালিত হতো রোমীয় একটি রীতি। মধ্য ফেব্রুয়ারিতে গ্রামের সকল যুবকরা সমস্ত মেয়েদের নাম চিরকুটে লিখে একটি পাত্রে বা বাক্সে জমা করত। অতঃপর ওই বাক্স হতে প্রত্যেক যুবক একটি করে চিরকুট তুলত, যার হাতে যে মেয়ের নাম উঠত, সে পূর্ণবত্সর ওই মেয়ের প্রেমে মগ্ন থাকত। আর তাকে চিঠি লিখত, এ বলে 'প্রতিমা মাতার নামে তোমার প্রতি এ পত্র প্রেরণ করছি।

সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক।

Monday, February 13, 2017

ব্যর্থতা বলে কিছু নেই,,,,


যে ছেলেটা ধূমপান ছাড়া এক মূহুর্তও চলতে পারে না,সে ছেলেটাও স্ট্যটাস দেয়"ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর"।সেও চায় অন্যরা ধূমপান না করুক। এটা তার চাওয়া.....
যে মেয়েটা সারা বছর পাঠ্য বইটি খুলেও দেখেনি,সেও চায় পরিক্ষায় ভালো রেজাল্ট।এটা তার আশা.....
যে ছেলেটা পাঁচ দিনেও পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েনা,সেও বলে "নামায বেহেশ্তের চাবি"।এটা তার উপলদ্ধি.....
যে মেয়েটা নিজের সতীত্ব বহু আগেই হারিয়েছে,সেও চায় সৎ বর।এটা তার আকাংক্ষা.....
যে ছেলেটা নষ্টামির গুরু ছিল,সেও চায় সৎ আদর্শবান রমনী।এটা তার প্রত্যাশা.....
জীবনের সংজ্ঞায়নটা বড়ই অদ্ভুত! অদ্ভুত এই জীবনটা গড়ে উঠে,একরাশ আশা,আকাংক্ষা, চাওয়া-পাওয়ার সমীকরন ঘিরে।সমীকরন মিলে গেলে মানুষ বুঝেনা জীবনের ওপিঠও আছে।আর না মিললে বুঝে নেয়,এটাই বুঝি জীবনের ব্যর্থতা।অথচ জীবনে ব্যর্থতা বলে কিছু নেই।যা আছে তা হলো আমাদের চাওয়া আর পাওয়ার পার্থক্য......


:

"যখন আমি বড় হব"


যে ছেলেটি বাল্যকালে ভাবে যে আমি বড় হলে এইভাবে জীবনকে এগিয়ে নিব, এই কাজ গুলো করব এবং সুখী হব ।ছেলেটি যখন একটু বড় হল, সে ভাবে কলেজের পাঠ শেষ করে এই এই কাজ করব এবং সুখী হব ।কলেজের পাঠ শেষ করে ভাবে এইবার একটা চাকুরি পাই, তারপর বেশ কিছু ভালো কাজ করব ।চাকরি যখন পেল তখন ভাবে এইবার বিয়েটা করি, তারপর অন্য ভালো কাজে হাত দিব ।কিন্তু বিয়ের পরও যখন কিছু করতে পারল না তখন ভাবল বাচ্চাদের লেখাপড়া শেষ হোক, তারপর দেখা যাবে ।ঠিক এইভাবে ভালো কিছু করব করব বলে কিছুই আর করা হয় না ।জীবনের শেষ অন্তিমকাল পর্যন্ত যায় তার কিছু করব করব বলেই ।